বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের জোর সম্ভাবনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। একই সঙ্গে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
সোমবার ( ২৫ মে ২০২৬) আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই বিশ্ববাজারের তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। জ্বালানির দাম কমার এই প্রবণতায় এশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাবে জাপানের প্রধান শেয়ার সূচক ‘নিক্কেই ২২৫’ প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে ছিল। সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ নৌপথটি পুনরায় সচল করা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে গত মার্চ মাস থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, এই শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করতে তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো চুক্তিতে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আলোচনায় অগ্রগতি হলেও ট্রাম্প তাঁর আলোচক দলকে ধীরস্থিরভাবে এগোনোর পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, তাড়াহুড়ো না করে সময় নিয়ে একটি কার্যকর ও টেকসই চুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কিছু বিষয়ে দূরত্ব কমলেও এখনো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল ইস্যুতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে।
জ্বালানি ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি চুক্তির খবরে আপাতত তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল স্থাপনাগুলো পুনর্গঠন এবং বিশ্ববাজারে কমে যাওয়া জ্বালানি মজুত পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।
সূত্র: বিবিসি।